প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৩ পিএম
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নে গড়াই নদী সংস্কারের সময় উত্তোলন করে রাখা বালু অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য তানজিদ আহমেদের বিরুদ্ধে। সংসদ সদস্যের নির্দেশে বালু বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ওই ইউপি সদস্য। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংসদ সদস্যের বক্তব্যে এ বিষয়ে অনুমোদন বা পূর্বজ্ঞানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবামাজাইল ইউনিয়নে গড়াই নদী সংস্কারের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে উত্তোলন করে রাখা বালু বিক্রির বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বালু বিক্রি বৈধ কি না এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য তানজিদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্যের নির্দেশেই বালু বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টি জানেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে পাংশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ আহমেদ জানান, বালু বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. বশির আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বালু উত্তোলন ও বিক্রির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
এদিকে, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। আমিও বিষয়টি শুনেছি। ইতিমধ্যে পাংশা থানার ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।
এলাকাবাসীর দাবি, নদী থেকে উত্তোলন করে রাখা বালু বিক্রির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক। বালু উত্তোলন ও বিক্রির অনুমোদন ছিল কি না, সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহারের দাবির সত্যতা কতটুকু এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
