মানুষকে জাগিয়ে তোলা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার সঠিক বিকাশের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মফস্বল অঞ্চলের তরুণদের কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে দিনব্যাপী আয়োজিত এক ‘জব ফেয়ার’ (চাকরি মেলা) উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে জাগিয়ে তোলা, কারণ এখানে প্রচুর অব্যবহৃত সম্ভাবনা রয়েছে যা সঠিক পরিচর্যায় নিজে থেকেই বিকশিত হবে। আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা আরও বেশি যোগ্য হয়ে শুধু বর্তমান চেয়ারে নয়, এর চেয়েও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করুক। বর্তমান ও আগামী দিনের অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, আমরা কোনো অবস্থাতেই চাই না এই প্রজন্মের তরুণরা মাদকাসক্ত কিংবা কর্মহীন থাকুক। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তারা নিজেদের সুপ্ত প্রতিভার পরিপূর্ণ স্ফুরণ ঘটাতে সক্ষম হবে।
মফস্বল অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের দুর্ভোগ কমাতে এই মেলার বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় ৮০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার ফলে চাকরিপ্রার্থীদের বড় শহরে যাওয়ার ভোগান্তি ও যাতায়াত খরচ অনেকটাই কমে গেছে। এর মাধ্যমে প্রার্থীরা সরাসরি নিয়োগকর্তাদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে স্থানীয় যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা বৃদ্ধির (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই চাকরি মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরামপুর জব ফেয়ার কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা (পিপিএম)।
ব্যাংক, টেক্সটাইল, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও বিভিন্ন এনজিওসহ দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৮০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশ নেয়। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনলাইনে প্রায় ২৫ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী এই মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেন, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
